বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের গদাবাগ মৌজায় ৩ শতাংশ ৮৬ অযুতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকায়।

কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তম চন্দ্র সরকার ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। জমির মালিক শাহনাজ বেগমের জমি সহজে দখলে নিতে না পেরে সেখানে মসজিদ নির্মাণের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে নতুন করে দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইট-বালু ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে বর্তমানে ওই জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। কয়েক মাস আগে জমিতে থাকা গাছ কেটে দখলের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খোরশেদ আলম নিজেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক পরিচয়ে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে বা ‘নাম বিক্রি’ করে তিনি প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে জমি দখলের চেষ্টা হলে তা দলটির ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, থানায় অভিযোগ করার পর সামাজিকভাবে সমাধানের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জমির মালিকপক্ষ।
সম্প্রতি জমিতে পুনরায় মাটি ভরাটের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, উত্তম চন্দ্র সরকার ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে বিভিন্ন সালিশ বৈঠকে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। তাই প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।